মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কে ব্রাজিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে কফি রফতানি ক্রমেই কমছে। উচ্চ শুল্ক বহাল থাকলে সামনের দিনগুলোয় তা আরো কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্রাজিলিয়ান কফি এক্সপোর্টার্স কাউন্সিলের (সিক্যাফে) সভাপতি মার্সিও ফেরেইরা। যদিও তিনি জাতিসংঘ অধিবেশনে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠককে আশাব্যঞ্জক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। খবর রয়টার্স।
গত আগস্টের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন ব্রাজিলের কফি ও অন্যান্য পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। ফলে আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রাজিলের কফি রফতানি আগের বছরের তুলনায় ৪৬ শতাংশ কমেছে। সিক্যাফের হিসাবে, ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আগের মাসের তুলনায় রফতানি কমেছে আরো ২০ শতাংশ। ফেরেইরা বলেন, ‘শুল্ক বহাল থাকলে রফতানি হ্রাস অব্যাহত থাকবে।’
বিশ্বের সবচেয়ে বড় কফি উৎপাদন ও রফতানিকারক দেশ ব্রাজিল। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কে বৈশ্বিক কফি বাজারেও দেখা দিয়েছে অস্থিরতা, দাম ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠছে। ফেরেইরা বলেন, ‘স্বল্প ও মধ্যম মেয়াদে মূল্যবৃদ্ধি উৎপাদনকারীদের জন্য উপকারী হলেও রফতানিকারক, ভোক্তা ও প্রক্রিয়াজাতকারী কোম্পনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় কনিলন (রোবাস্তা প্রজাতির কাছাকাছি কফি) উৎপাদনকারীদের সংগঠন কো-অব্রিয়েলের ওয়্যারহাউজ ম্যানেজার ভ্যালদেসির শ্মিট জানান, কৃষকরা উচ্চ দামের আশায় কফি মজুদ করছেন।
তিনি বলেন, ‘সেপ্টেম্বরের এ সময়ে আমাদের গুদামে রেকর্ড পরিমাণ কফি রয়েছে। গত বছর এ সময়ে এর অর্ধেকও ছিল না।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি কমলেও অন্যান্য বাজারে ব্রাজিলীয় চাহিদা বাড়ছে। সিক্যাফের তথ্যানুযায়ী, আগস্টে কলম্বিয়ায় ব্রাজিলীয় কফি রফতানি ৫৭৮ শতাংশ বেড়েছে। কো-অব্রিয়েলের হিসাবে, এ সময় শুধু কনিলন (রোবাস্তা কফির একটি ধরন)রফতানি ৩০০ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া ইতালি ও যুক্তরাজ্য থেকেও চাহিদা বাড়ছে।